সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ ইসলামে নিষিদ্ধ -মুফতি হুমায়ুন কবির

0
490

ইখবার টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি

ইসলামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। তা কুরআন ও হাদিছ দ্বারা অবৈধ প্রমাণিত। আর এর জন্য নির্ধারণ করেছে কঠোর শাস্তি। ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম শান্তির কথা বলে। ভ্রাতৃত্বের কথা বলে। মিলেমিশে থাকার কথা বলে। অশান্তি সৃষ্টিকারী সব প্রকার বিষয় ইসলামে নিষিদ্ধ। তাইতো মজলুম কাফিরগণ ইসলামের পতাকাতলে এসে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছে ও শান্তির ছায়া গ্রহণ করেছে।

জাহেলি যুগের বর্বরতার শিকলকে ভেঙ্গে ফেলেছে। হাজার বছরের অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবন থেকে তারা মুক্তি পেয়েছে। আর তারা তাকে মানবতার মুক্তিদাতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। নিম্নে এরকম কিছু বাণী তুলে ধরা হলো: মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয়-স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন এবং তিনি নিষেধ করেন অশ্লীলতা, অসৎকার্য ও সীমা লঙ্ঘন; তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো। (নাহল: ৯০)
মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, এবং যারা তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে, তোমরাও তাদের সঙ্গে আল্লাহর পথে যুদ্ধ কর এবং সীমা লঙ্ঘন করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমা লঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না। (বাকারা: ১৯০)

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, এ কারণেই আমি বানি ইসরাইলের প্রতি এ নির্দেশ দিয়েছি যে, যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করে অন্য প্রাণের বিনিময় ছাড়া কিংবা তা দ্বারা ভূ-পৃষ্ঠে কোনো ফাসাদ বিস্তার করে ফেললো; সে যেন পুরো মানবজাতি ধ্বংস করলো। আর যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তিকে রক্ষা করলো তবে সে যেন সমস্ত মানুষকে রক্ষা করলো; আর তাদের (বানি ইসরাঈলের) কাছে আমার বহু রাসূল স্পষ্ট প্রমাণসমূহ নিয়ে আগমন করেছিলেন, তবু এরপরেও তন্মধ্যে হতে অনেকেই ভূ-পৃষ্ঠে সীমা লঙ্ঘনকারী রয়ে গেছে। (মায়িদাহ: ৩২)

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, আল্লাহ যা তোমাকে দিয়েছেন তা দ্বারা আখিরাতের আবাস অনুসন্ধান করো। আর দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলো না এবং পরোপকার করো যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, আর পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চেয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পছন্দ করেন না। (কাসাস: ৭৭)।

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, হে মুমিনগণ! তোমরা পরষ্পর সম্মতিক্রমে ব্যবসা ছাড়া অন্যায়ভাবে পরষ্পরের ধন-সম্পত্তি গ্রাস করো না এবং তোমরা নিজেদের হত্যা করো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল। আর যারা সীমা অতিক্রম করে ও অত্যাচার করে এ কাজ করে, ফলত নিশ্চয়ই আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো এবং তা আল্লাহর পক্ষে সহজসাধ্য। (নিসা: ২৯-৩০)

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, বস্তুত মূসা (আ.)-এর প্রতি তার স্বগোত্রীয়  লোকদের মধ্যে শুধু অল্প সংখ্যক লোকই ঈমান আনলো, ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ফিরাউন ও তার প্রধানবর্গের ভয়ে যে, তারা তাদের নির্যাতন করবে; আর বাস্তবিক পক্ষে ফিরাউন সেই দেশে ক্ষমতাবান ছিল, আর সে ছিল সীমাতিক্রমকারীদের অন্তর্ভুক্ত।” (ইউনুস: ৮৩)

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, যারা নির্যাতিত হবার পর হিজরত করে, পরে জিহাদ করে এবং ধৈর্যধারণ করে; তোমার প্রতিপালক এসবের পর, তাদের প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।(নাহল: ১১০)

ইমাম বুখারী বর্ণনা করেন, হযরত আবূ মূসা নবী (সা.)  থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আমাদের ওপর হাতিয়ার উঠাবে, সে আমার দলের নয়। (বুখারী: ৭০৭১)
সহিহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত, হযরত আবূ মূসা নবী (সা.)থেকে বর্ণনা করেন, যখন তোমাদের কেউ মসজিদে গমন করবে বা বাজারে তার সঙ্গে তীর থাকবে, সে যেন তীরকে তার বেষ্টনিতে রাখে বা বললেন, তা সে হাতের মুষ্টিতে রাখবে যাতে কোনো মুসলিমের গায়ে না লাগে। (বুখারী: ৭০৭৫)

ইমাম বুখারী বর্ণনা করেন, হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। নবী (সা.) মুআযকে ইয়েমেনে পাঠালেন। তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি মজলুমের বদ দোয়া থেকে বিরত থাকো। কেননা, তার ও আল্লাহর মধ্যে  কোনো পর্দা থাকে না। (বুখারী: ২৪৪৮)

এসব বর্ণনাতে স্পষ্ট যে, ইসলামে সন্ত্রাস, অন্যায়, জুলুম, জঙ্গিবাদ কোনো কিছুর সুযোগ নেই। এ ধরনের অপরাধ ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তাদের জন্য ইসলাম বিভিন্নস্তর ভেদে শাস্তি নির্ধারণ করেছে। কারণ ইসলাম এসেছে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য, ইসলাম এসেছে মানুষকে মানবতা ও প্রভুর আনুগত্য শিখানোর জন্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here