রোজা সম্পর্কে বিশ্বের বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের ধারণা – এম. আহসান উল্লাহ

0
648
ইখবার টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি
ইসলামের মৌলিক পাঁচ বিধানের অন্যতম হলো রোজা। রোজার মাধ্যমে মানুষের অত্মশুদ্ধি তাকওয়া অর্জন যেভাবে হয়, তেমনিভাবে রোজার মাধ্যমে  শারিরিক অনেক উপকারিতাও রয়েছে। আজ আমরা রোজা শারিরিক উপকারিতা নিয়ে আধুনিক চিকিৎসক ও বিজ্ঞান যা বলেছেন তা নিয়ে আলোচনা করবো।
১. পাশ্চাত্যের প্রখ্যাত চিকিৎসাবিদগণ একথা স্বীকার করেছেন যে, “The power and endurance of the body under fasting conditions are remarkable : After a fast properly taken the body is literally born afresh.”
অর্থাৎ রোজা রাখা অবস্থায় শরীরের ক্ষমতা ও সহ্যশক্তি উল্লেখযোগ্য : সঠিকভাবে রোজা পালনের পর শরীর প্রকৃতপক্ষে নতুন সজীবতা লাভ করে।
২. জাপানি গবেষক ওশিনরি ওসুমি ২০১৬ সালে ‘অটোফেজি’ নামক একটি শারীরিক প্রক্রিয়ার আবিষ্কার করেন এবং নোবেল পুরস্কার পান। বিজ্ঞনের পরিভাষায় অটোফেজি শব্দটি দ্বারা মুসলমানদের রোজাকে বোঝানো হয়। তিনি তার গবেষণায় বলেন,  “অটোফেজি বা রোজার করণে মানুষের শরীর সুস্থ থাকে এবং অনেক ধরণের ক্যান্সারের জীবাণুও অটোফেজি বা রোজার কারণে মারা যায়”।
৩. জার্মানির ডাক্তার ফেডারিক হভম্যান (জন্ম ১৬৬০ মৃত্যু ১৭২৪) বলেছেন, “রোজার মাধ্যমে মৃগীরোগ, গ্যাস্টিক ও আলসারের চিকিৎসা করা যায়।”
৪. প্রখ্যাত জার্মান চিকিৎসাবিদ ড. হেলমুট লুটজানার-এর The Secret of Successful Fasting বইটিতে তিনি বলেন, “মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গের গঠন ও কার্যপ্রণালী বিশ্লেষণ করে নিরোগ, দীর্ঘজীবী ও কর্মক্ষম স্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হলে বছরের কতিপয় দিন উপবাস (রোজা) থাকা দরকার” ।
৫. ইটালির বিশ্ববিখ্যাত শিল্পী মাইকেল এংলো ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন। ৯০ বছর বয়স পার হওয়া সত্ত্বেও তিনি কর্মক্ষম ও কর্মঠ ছিলেন। তাকে এর রহস্য সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, “আমি বহু দিন আগ থেকেই মাঝে মাঝে রোজা রেখে আসছি। আমি প্রত্যেক বছর এক মাস, প্রত্যেক মাসে এক সপ্তাহ রোজ রাখি এবং দিনে তিন বেলার পরিবর্তে দুই বেলা খাবার খাই”।
৬. ১৯৬০ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডা. গোলাম মোয়াজ্জেম কর্তৃক মানব শরীরের উপর রোজার প্রভাব শীর্ষক গবেষণামূলক নিবন্ধ অনুযায়ী জানা যায়, রোজা দ্বারা শরীরের ওজন সামান্য হ্রাস পায় বটে, তবে তা শরীরের কোন ক্ষতি করে না বরং শরীরের মেদ কমাতে রোজা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অপেক্ষা অধিক কার্যকর।
৭. পাকিস্তানের প্রবীণ প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ হোসেনের নিবন্ধ থেকে জানা যায়, যারা নিয়মিত সিয়াম পালন করে সাধারণত তারা বাতরোগে, বহুমূত্র, অজীর্ণ, হৃদরোগ ও রক্তচাপজনিত ব্যাধিতে আক্রান্ত কম হয়। এছাড়া ডা. ক্লাইভসহ অন্যান্য চিকিৎসা বিজ্ঞানী পর্যন্ত স্বীকার করেছেন, ইসলামের সিয়াম সাধনার বিধান স্বাস্থ্যসম্মত ও ফলপ্রসূ, আর তাই মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার রোগব্যাধি তুলনামূলকভাবে অন্য এলাকার চেয়ে কম দেখা যায়।
৮. অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র প্রফেসর’স মোরপান্ড বলেছেন, আমি ইসলাম সম্পর্কে মোটামুটি জানার চেষ্টা করেছি। রোজা অধ্যায় অধ্যয়নের সময় আমি খুবই মুগ্ধ ও অভিভূত হয়েছি। চিন্তা করেছি ইসলাম তার অনুসারীদের জন্য এক মহাফর্মুলা দিয়েছে। ইসলাম যদি তার অনুসারীদের কোনো বিধান না দিয়ে শুধু রোজা দিত তবুও এর চেয়ে বড় নেয়ামত আর কিছু হত না।
বিষয়টি নিয়ে আমি একটু গভীর চিন্তায় মনোনিবেশ করলাম। তাই বাস্তব অভিজ্ঞতার জন্য আমি মুসলমানদের সাথে রোজা রাখতে শুরু করলাম। দেখলাম রোগ অনেকটাই কমে গেছে। আমি রোজা চালিয়ে গেলাম এতে দেহ আরো উন্নতি পরিবর্তন উপভোগ করলাম। কিছুদিন পর লক্ষ করলাম আমি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছি। এক মাস পর আমি নিজের মাঝে এক অসাধারণ পরিবর্তন অনুভব করলাম। (রসালানঈ দুনিয়া)।
৯. ক্যাব্রিজের ডাক্তার লেখার জিম। তিনি ছিলেন, ফার্মাকোলজি বিশেষজ্ঞ। তিনি রোজাদার ব্যক্তির খালি পেটের খাদ্য নালীর লালা স্টোমক সিক্রেশন সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরী পরীক্ষা করেন। এতে তিনি বুঝতে পারলেন, রোজার মাধ্যমে ফুডপাটি কোলস সেপটিক সম্পূর্ণ আরো দেহের সুস্থতার বাহন। বিশেষত পাকস্থলীর রোগের আরোগ্য লাভ করা যায়।
পরিবেশে মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে তাকওয়া অর্জনের পাশাপাশি পূর্ণ শারিরিক সুস্থতা দান করুক। আমিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here