শাওয়ালের ছয় রোযার ফজিলত : মাওলানা ছানা উল্লাহ নুরী মাহমুদী।

0
464
ইখবার টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি

 

সময় কারো জন্য বসে থাকে না। নদীর ঢেউ এর মত চলছেই তাই সময়কে কাজে লাগাতে হবে। নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন সকল নবী (আঃ) গণ থেকে দামী, তাই তাঁর উম্মতরাও দামী। এজন্যই আল্লাহ পাক শেষ নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মতের আমাল কম কিন্তু নেকি বেশি দিয়ে মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন।

বিভিন্ন সুন্নাহ এর আমালে মধ্যে রমযানুল মোবারকের পর শাওয়াল মাসের ছয় রোযা গুরুত্বপূর্ণ । এই রোযাকে ”ছয় রোযা” বলা হয়ে থাকে। এই রোযার গুরুত্ব আরোপ করে হযরত আবু আইয়্যুব আনসারী (রাঃ ) বর্ণনা করেন যে, মুহাম্মাদ আরবী, রহমাতে আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন যে ব্যক্তি রমযানের রোযা রাখলো অতঃপর শাওয়াল মাসের ছয়টি রোযাও রাখলো, সে যেন সারা বছর রোযা পালন করলো। ইমাম শাফেয়ী রহঃ এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন ছয়টি রোযা পরপর রাখা উত্তম। অর্থাৎ ২ রা শাওয়াল থেকে ৭ ই শাওয়াল পর্যন্ত রোযা রাখবে।

কিন্তু ইমাম আবু হানিফা রহঃ বলেন শাওয়ালের রোযা পৃথক পৃথক ভাবে রাখা উত্তম। অর্থাৎ পুরো শাওয়াল মাস ঘিরে যাতে ছয় রোযা রাখা যায়। রমযানের রোযা ৩০ টি কোরআনুল কারীমে বলা আছে একটি নেকীর কাজ করলে দশটি নেকী হবে, সে হিসেবে ৩০ রোযা = ৩০০ রােযা, আার শাওয়ালে ০৬ রোযা = ৬০ রোযা, তাহলে ৩৬ টি রোযার সোয়াব হবে ৩৬০ টি রোযার সোয়াব। আর বছর হয় ৩৬৫ দিনে। বছরে ০৫ দিন রোযা রাখা হারাম।

অতএব আসুন উপযুক্ত সময়ে বেশী নেকি অর্জন করে আখেরাতের সম্বল বাড়িয়ে নিয়ে আল্লাহ পাকের অশেষ রহমতের প্রত্যাশী হই ।

তথ্য সুত্র: সহিহ মুসলিম হাদিস নং ২৮১৫ অধ্যায় কিতাবুসিসয়াম, তিরমিযী, হাদিস নং ৭৫৯, ইবনু মাজাহ -১৭১৬, সুনানে দারেমী -১৭৫৪, ইবনু আবি শায়বা, ইবন খুযাইমাহ -২১১৪, মাসনাদে আহমাদ-২৩৫৩৩, ইরওয়াউল গালিল -৯৫০, ফাতহুল মারাম, যুক্তির আলোকে ইসলামের বিধান – আল্লামা আশরাফ আলী থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here