জুমআর দিনে যে আমলগুলো করবেন

0
170

ডেস্ক রিপোর্ট : জুমআর দিন সুরা কাহফ তেলাওয়াত, মনোযোগসহ ইমামের খোতবা শোনা, দরূদ পাঠ করা এবং আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত আল্লাহর জিকির ও ইবাদতে অতিবাহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি।

>> সুরা কাহফ তেলাওয়াত
জুমআর দিনের বিশেষ আমলসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা। তা হোক জুমআর আগে অথবা পরে। যারা এ দিনের সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে কেয়ামতের দিন তা পাঠকারীর জন্য আসমানসহ নূরে পরিণত হবে। হাদিসে এসেছে-

>> জুমআর দিনের বেশি বেশি দরূদ পড়া
হজরত আওস ইবনে আওস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের সবদিন অপেক্ষা জুমআর দিনটিই হলো শ্রেষ্ঠ। এ দিনে হজরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ দিনেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ দিনেই বিশ্ব ধ্বংসের জন্য শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে এবং এ দিনের পুনর্জীবিত করার জন্য দ্বিতীয়বার ফুঁক দেয়া হবে। আর এ দিন তোমরা আমার প্রতি বেশি বেশি দরূদ পাঠ কর।
তোমাদের দরূদ নিশ্চয় আমার কাছে উপস্থিত করা হবে। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের দরূদ আপনার কাছে কেমন করে উপস্থিত করা হবে অথচ আপনি তখন মাটি হয়ে যাবেন?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন, ‌আল্লাহ তাআলা নবিদের শরীর জমিনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন।’ (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, বায়হাকি)

>> আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত ইবাদত করা
জুমআর দিন দোয়া কবুলের জন্য একটি সময় আছে, যখন বান্দার কোনো দোয়া ফেরত দেয়া হয় না। যাদুল মাআদ গ্রন্থে এসেছে, ‘এ মর্যাদাবান মুহূর্তটি হলো- জুমআর দিন আছরের নামাজ আদায়ের পর (মাগরিব পর্যন্ত)।’

এ মতে পক্ষে একটি দীর্ঘ হাদিস রয়েছে। জুমআর দিন সূর্য উদয় হওয়ার পর (দুনিয়ায়) মানুষ এবং জিন ব্যতিত প্রত্যেক প্রাণীই কেয়ামতের ভয়ে আতংকিত থাকে। জুমআর দিনে এমন একটি বরকতময় সময় আছে, যাতে মুসলিম বান্দা নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে যা প্রার্থনা করবে, আল্লাহ তাকে তা দান করবেন-

মুসলিম উম্মাহর জন্য জুমআর দিন যেহেতু ইবাদত-বন্দেগির দিন হিসেবে সাব্যস্ত; তাই জুমআর দিন আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করাই হবে সব মুসলমানের একান্ত কাজ। আর উল্লেখিত বিশেষ আমলগুলো জুমআর দিনের জন্য সুনির্ধারিত।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমআর দিনে সুরা কাহফ পড়ার, ইমামের খোতবা শোনার এবং আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়ে বেশি বেশি দরূদ ও ইবাদতে আত্মনিয়োগ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here