বিয়েতে সন্তানদের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে : মাওলানা তারিক জামিল

0
460

‘জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হচ্ছে বিবাহ। তোমরা একত্রে দুইজন ছেলে মেয়ে নিজেদের বিবাহের ফায়সালা নিজেরা করো না। বাবা মায়ের দায়িত্বে দাও। উহার মধ্যে বরকত আছে, রহমত আছে এবং বাবা মায়ের দোয়াও আছে। কোট ম্যারেজ করো না। বয়ফ্রেন্ড, গার্লফ্রেন্ড এর কালচার আমাদের নয়। আমার নবীর তরিকায় পুরুষ ও মহিলার একমাত্র বিবাহের মাধ্যমে বন্ধন হয়, আর বাকিসব জাহান্নামের আগুন।

আর পিতা মাতাদের বলতেছি, আপনাদের সন্তানদের জিজ্ঞাসা না করে বিবাহ করাবেন না। তাদের সাথে জোড়াজুড়ি করবেন না। আমাদের সমাজ অনেক বড় অপরাধের শিকার। তারা তাদের সন্তানদেরকে বাধ্য করে যে, এটা করো-ওটা করো। আপনারা নারাজ হবেন না। এই জুলুম নিজের সন্তানদের করবেন না। সন্তানদের জিজ্ঞাসা করুন, যদি মেয়ে হ্যাঁ বলে তো তখন সিদ্ধান্ত নিন। সন্তান যদি এ বিয়ে করতে না চায় তাহলে সে নাফরমান নয়’।

তারিক জামিল বলেন, ‘আল্লাহর ওয়াস্তে আমার কথা শুনেন। মাইকে আপনারা আর ক্যামেরায় হাজার লোক শুনছে। যদি ছেলে না বলে, আব্বা আমি এখানে বিয়ে করবো না, আমি তাকে ছাড়া বাঁচবো না; তাহলে সে নাফরমান নয় বরং সে শরিয়তের হক ব্যবহার করেছে। আপনি তার ওপর জুলুম করবেন না যে- এটাই করতে হবে।

একটি হাদিস শুনো- নবী সা. বলেন, ‘হে লোকেরা শুনো, আমি যেখানে বিবাহ করেছি এবং আমি যেখানে আমার মেয়ের বিবাহ দিচ্ছি; আসমান থেকে জিবরাঈল আ. আল্লাহর হুকুম নিয়ে এসেছে তখন আমি কদম উঠিয়েছি’।

এরপর ‘আমার একথা বুঝেছ তোমরা’? প্রশ্ন রেখে মাওলানা তারিক জামিল বলেন, ‘শুনো, হযরত আলী (রা.) ফাতেমার (রা.) জন্য প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল। প্রথমে জিবরাঈল (আ.) সুপারিশ নিয়ে এসে বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ ফাতিমা আলির জন্য। পিতা মোহাম্মদ মোস্তফা সা. এর মতো ব্যক্তি। প্রস্তাব দিয়েছেন আলী রা. এর মতো ব্যক্তি আর কনে স্বয়ং রাসুল সা. এর মেয়ে ফাতিমা এর মতো মহীয়সী নারী। তো, আলী রা. প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন। রাসূল সা. বললেন, আলী তুমি কি ফাতেমার জন্য প্রস্তাব নিয়ে এসেছো? আলী রা. বললেন, ‘‘জ্বী ইয়া রাসূলুল্লাহ (সা.) আমি ফাতেমাকে বিয়ে করতে চাই’’। রাসূল সা. বললেন, ইনশাআল্লাহ। জিবরাঈল (আ.) পাশে বসে ছিলেন। বললেন, আপনি হ্যাঁ বলেননি, আপনি ইনশাআল্লাহ বলেছেন’।

রাসলূ সা. ফাতেমাকে বললেন, আলী তোমার জন্য বিয়ের প্রস্তাব এনেছে। মতামত জানতে চাইলেন। ফাতেমা (রা.) লজ্জায় চুপ করে রইলেন।

‘যেখানে আসমানে আল্লাহ ফয়সালা করেছেন। তাকদির ফেরেশতারা লিখে নিয়েছেন। তবুও রাসূল সা. কেন ইনশাআল্লাহ বললেন?’। মাওলানা তারিক জামিল বলেন, উম্মতকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য রাসূল সা. আলীর (রা.) প্রস্তাবে হ্যাঁ না বলে ইনশাআল্লাহ বলেছেন।

অর্থাৎ বিয়েতে সন্তানদের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিয়ের ক্ষেত্রে সন্তানের মতামত গুরুত্বপূর্ণ। উম্মতকে এই শিক্ষা দেওয়ার জন্যেই স্বয় আল্লাহ রব্বুল আলামীনের ফয়সালা জেনেও রাসূল সা. আলীকে (রা.) হ্যাঁ বলেননি, বরং ইনশাআল্লাহ বলেছেন।

অনুবাদ সংগ্রহীত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here